নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শাহআলী থানা পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় সুমন নামে এক ছিনতাইকারি আসামি পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমন একজন মাজার ও বুদ্ধিজীবী এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তাকে গ্রেপ্তারের পর থানায় আনার হলে থানা হেফাজত থেকেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাতকড়াসহ দ্রুত পালিয়ে যায় সে। একজন আসামি কীভাবে হাতকড়া পরা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অসতর্কতা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এই পলায়নের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একজন ছিনতাইকারী এভাবে প্রকাশ্যে পালিয়ে গেলে সে আরও বড় অপরাধে জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে শাহআলী থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে দায়িত্বে কারও অবহেলা ছিল কিনা।
তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান নয়, দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে আসামি পরিবহন ও হেফাজতে রাখার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা, পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিকরা।
পালাতক আসামী সুমন তার পিতার নাম-সৈয়দ আলী, দারুস সালাম থানা এলাকার জহুরাবাদের বাসিন্দা। হাতকড়া সহ পালিয়ে যাওয়ার পর গভীর রাতে দুই গাড়ি পুলিশ নিয়ে দারুসালামের জহুরাবাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে কিন্তু সেখান থেকেও চিহ্নিত ছিনতাইকারী সুমনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ উদ্ধার হয়নি খুইয়ে যাওয়া হাতকড়া।
আসামি পলায়নের তিনদিন অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার হয়নি সুমন। তবে হাতকড়া উদ্ধারের গুঞ্জন উঠেছে এ ঘটনা নিয়েও রহস্যে দেখা দিয়েছে। চাবি ছাড়া কিভাবেই বা হাতকড়া খুলল আসামি সুমন! আর হাতকড়া উদ্ধারি বা কিভাবে করল পুলিশ ! তা নিয়ে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। হাত করা কি ভাঙ্গা ছিল নাকি পুলিশ কারও সাথে আঁতাত করে আসামিকে গ্রেফতার না করা শর্তে হাতকড়া উদ্ধারের নাটক করল এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন নাগরিকদের মাঝে।
এ বিষয়ে শাহ্আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব হোসেন” বলেন, দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে পরিত্যক্ত লক ভাঙ্গা অবস্থায় হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে তবে আসামি গ্রেফতার করা হয়নি অভিযান চলছে। সুমনকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে অতি দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা হবে। এদিকে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।