খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য থাকা প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুৎটুলী রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে লার্নিং টয়েস বিতরণ করেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা (এফএলএন) যাচাই করেন। প্রতিমন্ত্রী দেখেন, শিক্ষণীয় উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন জটিল বিষয় ও ধারণা সহজে অনুধাবন করতে পারছে। প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে হাতে-কলমে ও খেলনার মাধ্যমে শেখার এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন বা উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে ঠিক কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন—তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি গণিত ও ইংরেজিসহ শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখনদক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করা হচ্ছে। আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে এসব ঘাটতি দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরান ঢাকার বিদ্যালয় পরিদর্শনের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে 'লার্নিং টয়েস'-এর ব্যবহার সারা দেশে বিস্তৃত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেতৃত্বের সংকট কাটাতে প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও গতিশীল হবে।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নতুন পথ তৈরি হবে।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।