Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের গোপন মধ্যস্ততায় ইরাকি নেতা বারজানি!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি। 

যুক্তরাষ্ট্রই তাকে খুঁজে বের করে এই যোগাযোগের দায়িত্ব দেয়। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি’র কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা পৌছে দিয়েছিলেন। পরে আবার আইআরজিসির ফিরতি বার্তা পৌছে দিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে। 

এদিকে, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র দিলশাদ শাহাব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে বারজানির নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। যুদ্ধের আগে, যুদ্ধ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়েও ইরাকি কুর্দিস্তান একই অবস্থান ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করলে যুদ্ধ শুরু হয়। তবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। ইরানের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় অংশ নেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে এই দুই নেতা আলোচনার জন্য প্রকৃত দায়িত্বপ্রাপ্ত কিনা বা সামরিক বাহিনীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশয় ছিল। সেই সংশয় দূর করতেই মার্কিন প্রশাসন সরাসরি আইআরজিসি নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এই গোপন যোগাযোগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানিকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং আইআরজিসি উভয়ের কাছেই অত্যন্ত বিশ্বস্ত। 

এই বিষয়ে সরাসরি জানেন এমন বেশ কয়েকটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে এই তথ্য জানিয়েছে। 

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার উত্তর ইরাকের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পরিচালনা করে, যার সদর দপ্তর ইরবিলে অবস্থিত। বারজানি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরানে থেকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ফার্সি ভাষায় সাবলীল এবং আইআরজিসি-র শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ইরানি প্রশাসনের অনেক সিনিয়র সদস্যের সাথে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে।

গত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের তখনকার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড প্রথম বারজানির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। গ্যাবার্ড ইরাকি নেতাকে জানান যে, আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদীর সাথে যোগাযোগের জন্য তার সাহায্য প্রয়োজন। 

একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, গ্যাবার্ড বারজানিকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের অনুমোদন নিয়েই এই কলটি করছেন। তিনি তাকে আরও বলেন, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ওয়াহিদীর কাছে পৌঁছাতে পারছে না, তাই তারা এই বিষয়টি স্পষ্ট হতে চায় যে; ঘালিবাফ এবং আরাঘচি যে বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে ওয়াহিদী এবং আইআরজিসি-র নেতৃত্বের সায় আছে কিনা। নাকি তাদের অন্য কোনো চিন্তাভাবনা বা দাবি রয়েছে।

বারজানি গ্যাবার্ডের অনুরোধে সম্মত হন এবং ট্রাম্পের টিমের বার্তা নিয়ে আইআরজিসি-তে তার পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি তার সূত্রগুলোকে জানান যে তিনি সরাসরি ওয়াহিদীর সাথে কথা বলতে চান, যাতে তেহরান রাজি হয়। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মে আইআরজিসি-র একজন কর্মকর্তা ইরবিলে বারজানির কার্যালয়ে তার সাথে দেখা করেন। নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে কথা বলার জন্য তিনি বারজানিকে একটি এনক্রিপ্টেড ফোন দেন। সেই ফোনটি ব্যবহার করে বারজানি ওয়াহিদীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি ওয়াহিদীর কাছে জানতে চান যে তিনি ইরানি আলোচনাকারীদের সাথে একমত কি না। জবাবে আইআরজিসি কমান্ডার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, ‘আমি তাদের পুরোপুরি সমর্থন করি এবং এটি আইআরজিসি-রও অবস্থান। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান করতে পছন্দ করি।’

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর পরপরই বারজানি গ্যাবার্ডের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ওয়াহিদীর বার্তাটি পৌঁছে দেন, যা গ্যাবার্ড পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প টিমের কাছে পাঠিয়ে দেন। ইরানের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পর, ট্রাম্প প্রশাসন আবারও আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে বারজানির সাথে যোগাযোগ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই প্রস্তাবে ইরবিলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের ঊর্ধ্বতন আলোচনাকারীদের মধ্যে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করার কথা বলা হয়েছিল। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানিদের উদ্বেগের কারণে সেই বৈঠকটি আর কখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছে। কট্টরপন্থী একটি অংশ কোনো আলোচনার পক্ষে নয়। আবার মধ্যপন্থিরা আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে যুদ্ধ শেষ করতে চান। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তারা যাদের সাথে আলোচনা করছেন, তারা সত্যি সত্যি দায়িত্বপ্রাপ্ত কিনা বা আলোচনার টেবিলের সমঝোতায় ইরানের মূল নেতৃত্বকে সম্মত করাতে পারবেন কিনা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখতে স্পিড বোটেই ভরসা ইরানের

1

ছক্কা মেরেও ফাইনাল নিয়ে কুলাসেকারার সঙ্গে কথা বলেননি ধোনি

2

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বেরোবির আওয়ামীপন্থী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষ

3

তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

4

ডামুড্যায় পৌর শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে ফেইসবুকে অপপ্রচারের প্

5

ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে নরওয়ে

6

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

7

ন্যাশনাল লাইফের ট্রিপল এ রেটিং: দাবি পরিশোধে শতভাগ নিশ্চয়তার

8

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

9

ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে নিয়ে ইউনাইটেড ও আর্সেনালের দ্বৈরথ

10

সমালোচনার মুখে নেইমারের রহস্যময় প্রতিক্রিয়া

11

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন

12

বাবাকে দাফনের পর রাতভর বুথে ডিউটি, সকালে দিলেন এইচএসসি পরীক্

13

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঘ

14

বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভোজিনিয়ার

15

এক ফরম্যাটে হলেও ভারত সিরিজ আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ

16

বাংলাদেশে এসে মধুমিতা : আপনাদের নিরাশ করব না

17

রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার মাঝেই মস্কোঘেঁষা সার্

18

কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

19

তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

20