বেরোবি প্রতিবেদক,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ের ভেতরে কথা-কাটাকাটির জেরে এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলাম আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই শিক্ষকের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কর্মকর্তা রফিক ইসলাম। এ সময় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ও ফোরামের সহসভাপতি ড. জিয়াউল হক জুনিয়রের বিরুদ্ধে রফিক ইসলামকে ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে।
পরে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে করিডরে থাকা ফুলের টব দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ করেন রফিক। এ ছাড়া শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর রহমান, কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম এবং লাবুসহ কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আহত কর্মকর্তা মো. রফিক ইসলাম বলেন, “মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় চিঠি পাঠানো নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন আমি বলি, এসব চিঠি কারা পাঠায়, এর একটা বিহিত করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। মজনু স্যার ইউসুফ স্যারের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে জীবন স্যার তাঁকে সহায়তা করেছেন—এমন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আলোচনার একপর্যায়ে তারেক বলেন, আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়। এরপর জিয়া আমাকে মারতে এগিয়ে আসেন এবং প্রথমে ঘুষি মারেন। পরে রোকনসহ কয়েকজন একসঙ্গে মারধর করেন। জিয়া, তারেক, মামদুদ, রোকন ও লাবু আমাকে মারধর করেছেন।”
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় তাঁকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়। পরে তিনি তাঁদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। তখন তাঁরা তাঁকে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।