Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চূড়ান্ত ডাক এলে সবাইকে বের হতে হবে : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা খানিকটা সময় দিচ্ছি। কিন্তু এই সময় দীর্ঘ হবে না। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। চূড়ান্ত ডাক এলে সবাইকে বের হতে হবে। আমরা সবাই এই যুবকদের সঙ্গে আছি। আমাদের জীবনে যা পাওয়ার পেয়ে গেছি, এখন সব তোমাদের জন্য লড়বো। 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ চলাকালে ফেনীর মহিপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি কোনো দলীয় দাবি বা কাউকে নেতা বানানোর জন্য না। নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। পুরোনো ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর জনগণকে অনেক লড়াই, সংগ্রাম ও যুদ্ধ করতে হয়েছে। অনেক জীবন দিতে হয়েছে, এই সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের কম নয়। শুধু জুলাইতেই ১৪শর বেশি। কিন্তু এখন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে, তাদের জন্য ওই সাড়ে ১৫ বছরের দরকার পড়বে না। 

তিনি বলেন, এখানেই একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে চলেছি, আমাদের সব চেনা। কার কতটুকু বুকের পাটা আমরা জানি। আমাদের এখন চোখ রাঙানো হয়। এই চোখ রাঙানো কোথায় ছিল সাড়ে ১৫ বছর? সরকারের অনুমতি না নিয়ে ১০ জন মানুষ রাস্তায় নামার সাহস আপনারা করেননি। কোনো চোখ রাঙানি আমরা ভয় করি না, ভয় করি শুধু আল্লাহকে। 

সবসময় জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের আমির বলেন, এই বাংলাদেশই আমাদের ঠিকানা। আমাদের ওপর স্ট্রিম রোলার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমরা দাদার বাড়ি, পিসির বাড়ি যাইনি। দেশ ছাড়িনি, মাটি কামড় দিয়ে এ দেশের বুকে ছিলাম। জনগণের সঙ্গে সুখে-দুঃখে ছিলাম। যারা আকাশে একটু মেঘ দেখলেই পালিয়ে যায় তারা কারা? অতীত-বর্তমান সকলকেই আপনারা চেনেন। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে বজ্রপাতেও আপনাদের সঙ্গে থাকবো।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী ভালো নেই। আজ ঢাকা থেকে পথে পথে দেখেছি বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ কোথায় আছে জানেন? বিদ্যুৎ আছে জাতীয় সংসদের ভেতরে, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি-ঘরে। আবার জিজ্ঞেস করলে বলেন- কোনো সংকট নেই। মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলতে পারে, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের কোন সমস্যা সমাধান হতে পারে না। 

জনগণের অধিকার নিয়ে টান দিলে প্রতিরোধ গড়া তোলা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা দেশ ধ্বংস করবেন, সব পর্যায়ে বেপরোয়া, নির্লজ্জ, বেহায়া দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে? জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবেন, বিরোধী দল চুপ করে বসে থাকবে? বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে যেখানে জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই বর্জন করা, বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা এবং সেখানেই প্রতিরোধ গড়া তোলা। 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকারি দল ও আমরা বলেছিলাম গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে তা মেনে নেব এবং পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবো। ছয় মাস চলে গেলেও তা সরকার বাস্তবায়ন করেনি। এরপর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেবে। এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের এই দাবি মেনে নেওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং ওয়াদার বাস্তবায়ন। জনগণের ভোটকে অতীতে যারা অগ্রাহ্য করেছে তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট এই লংমার্চের আয়োজন করে।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

এদিন দুপুর থেকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণাংশে পথসভাস্থলে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। এতে ফেনীর ছয় উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পথসভা শেষে লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফের কমেছে এলএনজি সরবরাহ, গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

1

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বেরোবির ফেরদৌস রহমান

2

রাজনগরে হাজী আব্দুল মালেক মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে ব

3

যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে, পুরোহিতও যমজ

4

শনিবারের বিক্ষোভ সামাল দিতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন ক

5

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে শিশুদের স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারী

6

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০ হাজার কোটি ডলারে নিতে চায় রাশিয়া-ভা

7

এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি

8

তিন সন্তান হত্যার দায় স্বীকার, ট্রাম্পও বলেছিলেন ‘ভয়াবহ ট্র্

9

বেশি গোল করার কারণে অধিনায়কত্ব পাচ্ছেন না হালান্ড

10

বেনফিকাকে টপকে পর্তুগালের সবচেয়ে সফল ক্লাব পোর্তো

11

এশিয়ান লিজেন্ডসে বাংলাদেশি দলের অধিনায়ক সাকিব

12

ভারতের অরুণাচলে আকস্মিক বন্যায় ৫ সেনা নিখোঁজ

13

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: নিজের প্রথম বাংলা ফন্ট “ইনকিলাব” নিয়

14

‘হনুমান অংশ’ নিয়ে রিচা চাড্ডা : ধর্মীয় জিনিস বেশি চলে

15

মেসির শোকে সুয়ারেজের হৃদয়ছোঁয়া সমবেদনা

16

কলকাতায় দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে পদদলিত হওয়ার ভয়াবহ ভিডিও প্রক

17

তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বাড়ানোর আহ

18

ভেদরগঞ্জ মহাসড়ক এখন মরণফাঁদ

19

সারা দিন ব্যাট করার পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার

20