Jahirul Hasan
প্রকাশ : Nov 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় বাস্তুচ্যুত ৭৫ শতাংশ পরিবার তীব্র খাদ্যসংকটে

দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে সাতক্ষীরায় আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। এসব পরিবারের ৯০ দশমিক ৮ শতাংশের ঘরে কোনো খাবার মজুত নেই। খাদ্যসংকটের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটেও দিন কাটছে তাদের। অন্যদিকে সরকারি জমিতে বসবাসকারী ৫৯ শতাংশ পরিবার রয়েছে উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকির মুখে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রাণ) যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের আগস্টজুড়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩৫টি অনানুষ্ঠানিক বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ১ হাজার ৩৪১ জন সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি বসতিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫৭৩টি জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছে। ২০২৪ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, বর্তমানে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা আরও বেশি।

জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র এবং ২৩ দশমিক ২ শতাংশ মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। খাদ্যনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে—এমন কোনো পরিবার পাওয়া যায়নি। খাবার জোগাড় করতে গিয়ে ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করেছে। আর ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করতে নিজেরা কম খেয়েছেন।

খাদ্যসংকটের প্রধান কারণ হিসেবে ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার অর্থসংকট এবং ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার খাদ্যের উচ্চমূল্যের কথা জানিয়েছে। খাবারের পুষ্টিমানও উদ্বেগজনক। এসব পরিবারে সপ্তাহে গড়ে মাছ, মাংস বা ডিম খাওয়ার সুযোগ হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৯ দিন, দুধ শূন্য দশমিক ৯ দিন এবং ফল শূন্য দশমিক ৬ দিন।

খাদ্যসংকটের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাবও প্রকট। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার অন্তত আংশিকভাবে লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। মাত্র ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের খাবার পানির উৎস সব সময় পাওয়া যায়। গত এক মাসে ৫০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা পাননি।

বাসস্থানের নিরাপত্তাহীনতাও রয়েছে। সরকারি জমিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসবাসকারী ৫৯ শতাংশ পরিবার উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকির মুখে রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের ঘরে পানি উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা পরিবারগুলোর পক্ষে ঘরবাড়ি, স্যানিটেশন ও জীবিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাস্তুচ্যুতির সময় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগি, ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্য মজুত, ৪১ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিজমি এবং ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ মাছ ধরার সরঞ্জাম হারিয়েছে। আগে কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন দিনমজুরি, ভ্যান-রিকশা চালানো কিংবা গৃহকর্মে যুক্ত হয়েছেন।

বাস্তুচ্যুতির আগের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। আর ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির পর পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য কমেছে।

সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছেন এসব মানুষ। মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। গত ১২ মাসে ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পায়নি। সরকারি আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পেরেছে মাত্র ৩ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার।

জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা ও ভোটার নিবন্ধনের জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবকে সহায়তা পাওয়ার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহায়তা না পেলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা জানেন না ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার।

গবেষণায় বাস্তুচ্যুতির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক জীবনেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে মাত্র ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত।

গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাস্তুচ্যুতির ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি, জমি কিংবা সম্পদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঠিকানা ও পরিচয় হারানো, সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়া, নতুন এলাকায় বৈষম্য, শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি মানসিক চাপও এর অংশ। এসব ক্ষতি অর্থের হিসাবে সহজে ধরা পড়ে না।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ মূল্যায়নের বরাত দিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাংলাদেশে দুর্যোগের কারণে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলেন। তাঁদের প্রায় ৬৩ শতাংশ ২০২০ সালের এপ্রিলের আগেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অর্থাৎ, বাস্তুচ্যুতি অনেকের জন্য সাময়িক সংকট নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন।

গবেষণায় বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিমালা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধানের কথাও বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১-এ বাস্তুচ্যুত মানুষের সামাজিক ভাতা অব্যাহত রাখা, নতুন ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা, ভূমির নিরাপত্তা, জীবিকা সহায়তা এবং কাগজপত্রের অভাবে শিশুদের শিক্ষাবঞ্চিত না করার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২২-২০৪২, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনাতেও এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে গবেষণার তথ্য বলছে, এসব অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন এখনো সীমিত। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কম, ভূমির নিরাপত্তা নেই এবং বিপুলসংখ্যক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, খাদ্যনিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে খানি ও প্রাণ।

সংগঠন দুটি বলেছে, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, জরুরি খাদ্যসহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ না করা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের জন্য বসতিভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প আয়োজন এবং কাগজপত্রের অভাবে কোনো শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে বঞ্চিত না করার সুপারিশও করেছে তারা।

কপ৩১-এ ক্ষয়ক্ষতি ও বিনষ্টি মোকাবিলা তহবিলের অর্থায়নে বাংলাদেশের জাতীয় কৌশলপত্র বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়নে শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিতে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বানুমানযোগ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দুর্যোগ শেষ হলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট শেষ হয় না। বরং ঘর হারানোর পর শুরু হয় খাদ্য, পানি, আবাসন, জীবিকা ও মর্যাদার দীর্ঘ লড়াই। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও জীবিকার টেকসই পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খানি বাংলাদেশের সহসভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিক, ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চের (সিইপিআর) নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারপার্সন গৌরাঙ্গ নন্দী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও পিপিআরসির সিনিয়র ফেলো মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ফাতেমা বেগম, সাতক্ষীরার স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার অমিত রঞ্জন দে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বৈঠকে যা আল

1

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবে যে শর্তে র

2

হরমুজ প্রণালী দিয়ে শত্রুর কোনো উন্নত প্রযুক্তিই যেতে পারবে

3

বেরোবি উপাচার্যের সঙ্গে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাক্ষাৎ, ক

4

এবার পুলিশের বিশেষ দায়িত্বে শহিদ আফ্রিদি

5

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান

6

অবসর ভেঙ্গে মাঠে নামছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা, জানা গে

7

ক্যারিবীয়দের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত, পথের কাঁটা বাংল

8

ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধগলিত শিক

9

শক্ত হয়ে ফিরবে অজিরা, দাবি সিমন্সের

10

সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

11

৬৭ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে প্রশ্ন, কড়া জবাব নীনা গুপ্তার

12

কুবির আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্টের সেরাদের সেরা হলেন যারা

13

পরীমনির ওয়ালে ‘প্রথম ক্রাশ’-এর ভিডিও, কীসে মুগ্ধ হলেন নায়িকা

14

জিন্নাতের জন্য নেই অনুষ্ঠান, উল্টো উশুর সেক্রেটারিকে সভাপতির

15

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকে

16

জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করল চীন, এশিয়ার বাজারে সংকটের শঙ্ক

17

অবশেষে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে দিওমান্দের

18

আট বছর পর ফিরেও ব্যর্থ, প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন প্রীতি জিনতা

19

নতুন প্রতিভাবান বোলার খুঁজে পেয়েছেন মুশতাক আহমেদ

20