আটলান্টিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার অভিবাসীবাহী একটি নৌকায় অন্তত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ৪৪ জনকে উদ্ধার করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী পরিষেবা জানিয়েছে, বুধবার বিকালে গ্রান ক্যানারিয়া দ্বীপের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে তাদের একটি বিমান ভাসমান একটি নৌকা শনাক্ত করে।
পরে তিনজনকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে দ্বীপের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি ৪১ জন অভিবাসীকে নৌকায় করে নিরাপদে উদ্ধার করে আরগুইনেগুইন বন্দরে নামানো হয়। এরপর রেড ক্রসের পক্ষ থেকে তাদের সেবা প্রদান করে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে রেড ক্রসের মুখপাত্র হোসে আন্তোনিও রদ্রিগেজ ভেরোনা জানান, জীবিতদের সবাই পুরুষ। যাদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তারা মালি বা সেনেগাল থেকে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জীবিতরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন; স্থলে পৌঁছানোর পর অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন বা বমি করছিলেন। তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল।তবে অভিবাসীরা জানিয়েছেন, তারা গাম্বিয়া থেকে রওনা হয়েছিলেন এবং সমুদ্রে অনেক অনেক দিন আটকা পড়েছিলেন। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, তারা প্রায় এক মাস ধরে সমুদ্রে ছিলেন। খাবার ও পানীয় ফুরিয়ে যাওয়ায় সমুদ্রের পানি পান করে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জীবিতরা রেড ক্রসকে আরও জানান, শুরুতে নৌকায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন, যার মধ্যে নারী ও একটি শিশুও ছিল। যাত্রাপথে মানুষ মারা যাওয়ার পর তাদের মৃতদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো। অন্যদিকে স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী পরিষেবা জানিয়েছে, তীব্র বাতাস এবং ২.৫ মিটার (৮ ফুট) উঁচু ঢেউয়ের কারণে নৌকার ভেতরে পাওয়া মৃত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘ওয়াকিং বর্ডারস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা মালেনো স্পেনে অভিবাসন পথে মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি জানান, এই যাত্রায় ৮৩ জন মারা গেছেন; মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে মালেনো জানান, নৌকাটি ২৭ দিন আগে গাম্বিয়া থেকে রওনা হয়েছিল।
নিখোঁজ অভিবাসীদের স্বজনরা প্রায়ই ম্যালেনো এবং তার এনজিও-র সাথে যোগাযোগ করেন। তারাও অনেক সময় উদ্ধার ও সহায়তার জন্য আসা এসব বার্তা স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পথটি ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম বিপজ্জনক একটি রুট। যদিও গত এক বছরে এই স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এমনকি অভিবাসীদের বহনকারী বেশ কিছু নৌকা পথ হারিয়ে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।