বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেও প্রস্তুত রয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কোনও বৈঠক হবে কি না; এমন প্রশ্নসহ দুদেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে করা একাধিক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনও বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই। তবে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের তা জানাব।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গত রোববার নিউইয়র্ক পৌঁছান। অধিবেশনের ফাঁকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেছেন তিনি।
এদিকে, পাঁচ দিনের সফরে সোমবার নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির সরকারপ্রধান এবং কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
ভারতের গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, নতুন দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হতে যাওয়া পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের পদায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফেরার’ ইঙ্গিত কি না।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আমরা আগেও বলেছি, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আমাদের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই আমরা সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা এই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই।”
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে। ভারতের সভাপতিত্বে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ভারত জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের এবং অন্যটি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য।
ভারতে আয়োজিত আসন্ন বহুপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণ ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল আবারও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চাই।”
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া সাতটি বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যতম বাংলাদেশ।
সূত্র: ডেকান হেরাল্ড, পিটিআই।