Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইরান সংকট সমাধানের যে পথ বাতলালেন ট্রাম্প

ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা নিরসনে নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি 'ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর' বা 'আইএমইইসি' প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জবাবে এই সংযোগ করিডোরই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে তাদের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য বহনের জন্য আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাইপলাইন বা বিকল্প যে কোনো মাধ্যমের সাহায্যে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই বৃহৎ বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের গোড়াপত্তন ঘটে। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটিকে দুটি প্রধান রুটে ভাগ করা হয়েছে; পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে সংযুক্ত করবে ইউরোপের সাথে। এই করিডোরে থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহনের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (বিআরআই)-এর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেন। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এক সময় অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি জাতি হিসেবে তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সাথে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। 

সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্

1

ডান ঊরুতে চোট, লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে নেইমার

2

দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোন’ চালুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

3

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের এক মাস: ধ্বংসস্তূপে চলছে মরদে

4

৩ অক্টোবর শুরু এনসিএল, কবে কোথায় কখন খেলা

5

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

6

রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্যেই ‘নিখুঁত’ হয়েছে ইরান: সিএনএন

7

সৌদিতে সাগরে বিকল নৌকা থেকে ২ বাংলাদেশি উদ্ধার

8

হাই পারফরম্যান্সে ভারতের মডেল অনুসরণ করতে চায় বিসিবি

9

সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে আবেগঘন ইয়ামি

10

৬৪ দলের বিশ্বকাপের পথে ফিফা, সমালোচনাতেও থামছেন না ইনফান্তিন

11

আম্পায়ার সৈকতের পদত্যাগের কারণ জানাল বিসিবি

12

সুখবর পেল আর্সেনাল

13

পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে প

14

ইয়ামালের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই রিয়ালের, দাবি মরিনিওর

15

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যা

16

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গেছে বাড়ি, নিখোঁজ মালিকের অপেক্ষায়

17

সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

18

মেসির অবসরে মাঠের বাইরে বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা!

19

ভারতে প্রথমবার অনুমোদন পেল ডেঙ্গু টিকা

20