দূর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনপদে দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ‘স্টারলিংক’ নিয়ে নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সমস্যাটা কেবল নেটওয়ার্ক পৌঁছানোর নয়; বরং সংযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা না থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০৯ কোটি। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৬৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক থাকলেও গ্রামীণ অঞ্চলে এই সংখ্যা ৪৪ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার অনুপাতে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। শহরে প্রতি ১০০ জনে যেখানে প্রায় ১২৭ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন, সেখানে গ্রামে প্রতি ১০০ জনে এই সংখ্যা মাত্র ৪৮ জন।
অথচ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই থ্রি-জি থেকে ফাইভ-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে। উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু কিংবা বিহারের মতো রাজ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি গ্রামে মোবাইল সংযোগ কার্যকর রয়েছে। কিন্তু শতভাগ নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিহারের গ্রামে প্রতি ১০০ জনে মাত্র ৩৬ জন ইন্টারনেট সেবা নিচ্ছেন। মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের অবস্থাও প্রায় একই।
টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন প্রযুক্তি বা উচ্চগতির স্যাটেলাইট সংযোগ আনলেই এই ডিজিটাল ব্যবধান ঘুচবে না। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত দাম, ইন্টারনেট প্যাকেজের খরচ, ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতিই মূলত প্রান্তিক মানুষকে অনলাইন দুনিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।