Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

‘বোরকা আইন’: পর্তুগালে জনসমক্ষে বোরকা ও মুখঢাকা পোশাকে নিষেধাজ্ঞা

পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো নতুন আইনে অনুমোদন দেওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে পরিচিত এই আইনে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মুখ পুরোপুরি ঢেকে ফেলে বা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। তবে স্বাস্থ্য, পেশাগত, শৈল্পিক ও আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন ও উড়োজাহাজেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

আইনে কাউকে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত পরিচয়ের কারণে মুখ ঢাকতে বাধ্য করার বিষয়টিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো বলেছেন, মানুষের পরিচয় ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাঁর ভাষায়, মুখ খোলা রাখা পর্তুগিজ সমাজে সামাজিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তবে আইনটি নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী চেগা পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবটি জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা সমর্থন দিলেও বামপন্থী দলগুলো এর বিরোধিতা করে।

পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন, পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল এবং পর্তুগিজ অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন লইয়ার্সসহ কয়েকটি আইনজীবী সংগঠনও প্রস্তাবটির সমালোচনা করে। তাদের কেউ কেউ আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

মধ্য-বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভ্রে ও পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি সতর্ক করে বলেছে, এই আইন ইসলামোফোবিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে। সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিযোগ, প্রস্তাবটির ব্যাখ্যামূলক নথিতে ইসলামোফোবিয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল এবং এর ফলে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টির দাবি, প্রস্তাবটির সঙ্গে নারীর অধিকার বা নিরাপত্তার প্রশ্নের সম্পর্ক নেই, বরং এটি ভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বৈষম্যমূলক মনোভাব বাড়াতে পারে।

লিভ্রের পক্ষ থেকেও ডানপন্থীদের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, নারীর অধিকার রক্ষার যুক্তি সামনে আনা হলেও এর মাধ্যমে পর্তুগালে কথিত ‘ইসলামি আগ্রাসন’ নিয়ে অযৌক্তিক আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

পর্তুগালের এই আইন ইউরোপে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন আইনেও জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ইউরোনিউজ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ম্যানচেস্টারের ফুটবলার বাংলাদেশের ক্যাম্পে

1

গণভোটের রায় মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের

2

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

3

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কান ধরলেন সোনাক্ষী! কার কাছে চাই

4

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক তিন শতকের ‘যন্তর মন্তর’

5

ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্য

6

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব: প্রধ

7

চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণ প্রকল্পে ভারতকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র

8

সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজ

9

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সহিংসতা, যা বললেন রাহুল গান্ধী

10

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ জরুরি: স্বর

11

মাদ্রিদ ক্লাবে প্রথম কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান

12

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

13

বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্র

14

যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে, পুরোহিতও যমজ

15

তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

16

" মায়ের দেওয়া কিডনিও বাঁচাতে পারল না বেরোবির শিক্ষার্থী জাহি

17

ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ভারতের

18

প্লাস্টিক ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি! কুকুরেয়ার কাণ্ডে তোলপাড়

19

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের এক মাস: ধ্বংসস্তূপে চলছে মরদে

20