লর্ডসে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুবাতাস পাচ্ছে ইংল্যান্ড। সফরকারীদের ১১০ রানে অলআউট করে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮১ রান তুলে ২৬১ রানে এগিয়ে আছে তারা। এদিন ১৩টি উইকেটের মধ্যে সাতটিই ভাগ করে নেন অলি রবিনসন ও জোফ্রা আর্চার।
এর মধ্যে রবিনসন ১৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮১ রান তুলে মোট লিড ২৬১ রানে নিয়ে যায়। ইংল্যান্ড এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো তাদের চারজন পেসারের সমন্বয়ে গঠিত পেস আক্রমণভাগকে একসঙ্গে মাঠে নামায়।
জোফ্রা আর্চার, অলি রবিনসন, জশ টাং এবং গাস অ্যাটকিনসন এই চারজন পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলান। এর আগে হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। সেই ম্যাচে আর্চার পাকিস্তানের দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সাক্ষাৎকারে এই পেসার বলেন, দলে বাড়তি পেসার থাকাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। এই গতিতে চললে আমি হয়তো ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলে যেতে পারব। একেক দিন একেকজনের পালা আসবে। সবাই ছিল দুর্দান্ত ও আক্রমণাত্মক; প্রত্যেকেই উইকেট নিতে চায়। মনে হচ্ছে না কাউকে অতিরিক্ত ধকল সইতে হবে, কারণ সবাই মিলে ওভারগুলো ভাগ করে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ক্লান্ত বোধ করে, তবে সে সহজেই রুটকে জানিয়ে জায়গা অদলবদল করে নিতে পারে। এতে শরীর সতেজ করে আবার ফিরে আসা যায়। আপনাকে খুব বেশি চাপ নিতে হবে না, কারণ ছন্দ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ আপনাকে সহায়তা বা ব্যাক-আপ দেবে।
দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন আর্চার ধারাবাহিকভাবে তার গতির ঝলক দেখান। তিনি নিয়মিত ঘণ্টায় ৯২ মাইল গতিতে বল করেন এবং কোনো কোনো সময় তা ৯৪ মাইল পর্যন্ত পৌঁছায়। রবিনসনের ৪ উইকেট শিকারের স্পেলটি ছিল বিশেষভাবে বিধ্বংসী। ১৩ ওভারে ছয়টি মেডেন ওভার করে তিনি পাকিস্তানের রান তোলার সুযোগ সীমিত করে দেন।
এই চার পেসারের গতি ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের সমন্বিত আক্রমণ পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
হেডিংলিতে জয়ের পর সিরিজে ইংল্যান্ডের ১-০-তে এগিয় আছে। সেই ম্যাচে রবিনসন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ৫১ রানে ৫টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে ৩টি উইকেট নেন, আর জশ টাং ৪৬ রানে ৫টি উইকেট শিকার করেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসজুড়ে সিরিজটি এগিয়ে চলার পথে লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টটি ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের শক্তিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।