Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি চাহিদা ও মুদ্রা সাশ্রয়ে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সরকারের

দেশের সার্বিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ফুলবাড়ীর উচ্চমানের কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তবে এ সংক্রান্ত যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প গ্রহণ করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের যথাযথ পুনর্বাসন ও জীবিকা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ফুলবাড়ীর কয়লা বিশ্বের অন্যতম সেরা মানের কয়লা। আমরা যদি এই কয়লা উত্তোলন করে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে পারি, তাহলে তা অবশ্যই দেশের জন্য ভালো হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ ও জীবিকার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নেবে। আমরা রাজনীতিবিদ এবং আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি’— বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে ওই এলাকার কৃষিজমি ও বসতিতে প্রভাব পড়বে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কীভাবে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা যায়, তা আগে পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে তাদের আয় ও জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষ কীভাবে এর সুফল পেতে পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা এসব বিষয় পর্যালোচনা করব এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেব।

এর আগে সাবিকুন নাহার সতর্ক করে বলেন, কয়লা উত্তোলন বাড়ালে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়তা হতে পারে। তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প নিয়ে বছরের পর বছর ধরে উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যুক্তিতে কৃষিজমি ধ্বংস, হাজারো মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার আগে তিনি ব্যাপক পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসছে বছর আবার হবে বুড়িগঙ্গায় দেবী দুর্গার বিসর্জন

1

অভিবাসন ব্যয় কমা‌তে কাজ কর‌ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

2

ভারতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্র

3

সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্

4

আইসবার্গ পার করলেই বিনামূল্যে নাকভির কাছে ‘দল বাছাইয়ের কৌশল’

5

‘বানে ভেসে যাচ্ছিলাম, প্রাণ বাঁচল আমগাছে আটকে’

6

৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেও বৈষম্য কমাতে পারছে না ভা

7

যুক্তরাজ্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে নেতানিয়াহুর কটাক্ষ

8

স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী

9

সব মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন প্রশিক্ষণ সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্

10

বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ ক

11

দুই তলাবিশিষ্ট ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র বানিয়েছে উ. কোরিয়

12

যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান

13

সৌদির পণ্য রপ্তানিতে ইয়েমেনি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা, বাড়ছে তেলের

14

ইরান যুদ্ধ : সামরিক সহযোগিতা চাইলেন ট্রাম্প, করছে দক্ষিণ কোর

15

উদ্বাস্তু শিবিরে কোরআন হিফজ করছে গাজার শিশুরা

16

এক বছরেই দুইবার বিধবা হয়েছেন তিনি, গাজার নারীর দুঃসহ জীবন

17

দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত মার্কিন নৌসেনারা, সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার এ

18

ট্রাম্পের নীতির ধাক্কা মার্কিন শিক্ষাখাতে, কানাডায় যাচ্ছেন ন

19

বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’, বিহারি নারীদের দক্ষতায় খুলছে

20