Jahirul Hasan
প্রকাশ : Nov 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেও বৈষম্য কমাতে পারছে না ভারত

মাত্র ১২ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে ভারত। 

বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে চরম দারিদ্র্যের হার ২০১১ সালের ২৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। 

তবে দারিদ্র্য কমলেও দেশটিতে ধনী-দরিদ্রের আয় ও সম্পদের বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ের মানুষকে চরম দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ের জনগোষ্ঠীর হারও একই সময়ে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক দারিদ্র্য অর্থনীতিবিদ আয়াগো ওয়ামবিলের নেতৃত্বে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান এবং খাদ্য ভর্তুকিসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দারিদ্র্য হ্রাসের এই অগ্রগতিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা কর্মসূচি চালু হয়েছিল। পরে মোদি সরকারের আমলে বিনা মূল্যে খাদ্যশস্য, নগদ অর্থ সহায়তা, আবাসন এবং স্যানিটেশন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানির সংযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। ২০২৬ সালের বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে, নিম্ন আয়ের ৫০ শতাংশ মানুষের ভাগে রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

এছাড়া কর্মসংস্থানের সংকট, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শীর্ষ ১০ শতাংশ কর্মীর মধ্যম আয় ছিল সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ কর্মীর তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি আয়বৈষম্য মোকাবিলায় প্রগতিশীল করব্যবস্থা, মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। তাদের সতর্কতা, দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি সত্ত্বেও দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ে এখনও প্রায় ২৩ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয়ের জীবন কাটছে। 

সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে মেধা-দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়

1

এশিয়ান দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশে

2

চেলসির মালিকানা বদল নিয়ে মুখ খুললেন আলোনসো

3

‘স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছি’

4

বিমানবন্দরে ইসরায়েলিকে ‘শিশু হত্যাকারী’ বলে মারামারিতে জড়ালে

5

সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

6

হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধ

7

ডার্বির আগে অনুশীলনে নেই নেইমার, কারণ জানাল সান্তোস

8

রদ্রি নয়, গোল্ডেন বল মেসিরই প্রাপ্য ছিল, দাবি ইব্রাহিমোভিচের

9

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে সফরসঙ্গী ৩৫ জন

10

বাংলাদেশকে রিভিউ নিতে বলে সাবেকদের তোপের মুখে স্মিথ

11

থাইল্যান্ডে ১০ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

12

আর্জেন্টিনাকে ফিফার কঠোর শাস্তির পর স্পেনের গণমাধ্যমে উসকানি

13

সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সর্বোচ্চ সর্তক থা

14

বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের আগেই ইনফান্তিনোকে

15

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভ

16

আসিয়ান কাপের সূচি ঘোষণা, হামজাদের খেলা কবে কোথায়

17

সিপিএলে দল পেলেন মিরাজ

18

বেলুচিস্তানে পৃথক অভিযানে ৭ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত

19

শক্ত হয়ে ফিরবে অজিরা, দাবি সিমন্সের

20