Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আরও বাড়ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গত প্রায় দুই সপ্তাহে তার একের পর এক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

ভোটারদের জন্য ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের ‘টারিফ ডিভিডেন্ড’ এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ) থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের একটি অংশ নাগরিকদের দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থায়ন ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। 

দুর্যোগ সহায়তা নিয়েও বিতর্ক
নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেন, রাজ্যটি যদি ওই প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে, তাহলে বকেয়া দুর্যোগ সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে না।

পরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তিনি রসিকতা করে করেছিলেন। তবে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সরকারি সহায়তাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে নিজেকে কার্যত ব্যালটে থাকা প্রার্থীর মতো বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে ভোটারদের উচিত তার সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের নির্বাচিত করা।

৯/১১ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় নিজের উপস্থিতি ও সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প বলেন। কিন্তু তার বর্ণনার বিভিন্ন অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

একই সময়ে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যার চেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। এ ঘটনায় হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিল—এমন কোনও প্রমাণ নেই।

বাণিজ্য বন্ধের হুমকি
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বড় অংশের বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

উত্তর ক্যারোলাইনায় তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের আয় করার যুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত
এরপর হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন সিএনএনের এক প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস নিয়ে নেওয়া হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

আরও কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য
ট্রাম্প সম্প্রতি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নাকি তার সাক্ষাৎকারের সময়কার ব্যক্তিদের মতো আর নেই। 

দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকেও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। অথচ একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু গবেষক ও প্রতিষ্ঠান এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে।

এছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে আদালত অনুমোদন না দিলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগ্রহ হারাতে পারেন।

নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার আচরণ, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে সাতজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই—যদিও এ ধরনের জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকেরা এগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। 

সূত্র: সিএনএন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতা করবে ইর

1

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসিকে কী বলেছিলেন ইয়ামাল?

2

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও এলএনজি সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান

3

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সঙ্গে মাদককাণ্ড, বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার

4

হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০১

5

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার বড় দুঃসংবাদ

6

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হব

7

জিম্বাবুয়ের কাছে হারের ম্যাচে শাস্তি পেল বাংলাদেশ

8

ভিসির বাংলোর পুকুরে মাছের খাবার: দেড় লাখ বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয়

9

যুক্তরাষ্ট্রে মাংসখেকো পরজীবীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করল বিজ্ঞানী

10

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট

11

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে সিসির সঙ্গে মোদির বৈঠক

12

বিজেপি সোনার বাংলাকে কারাগারে পরিণত করেছে : মমতা

13

প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাছবীর হোসেন,সাধারণ সম

14

সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

15

দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ দখল ও চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভ

16

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন নৌসেনা নিহত: এনবিসি

17

রাশিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মিনিবাসের ছয় যাত্রী নিহত

18

ইয়েমেনের রাজধানীতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে সৌদি

19

দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনলো বিজিবি

20