ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে তার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।
এই কাউন্সিল সাময়িকভাবে জাতীয় দলের অধিনায়ককে নিষিদ্ধও করেছে। এই কেসকে তারা ‘জরুরি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত শাস্তির ঘোষণা আসতে পারে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গতাল (শুক্রবার) থেকে, তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা ৪১ বছর বয়সীর ওপর কার্যকর হয়। পরে এই কাউন্সিল একটি পূর্বসতর্কতামূলক সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই ঘটনাকে জরুরিভাবে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।
পর্তুগিজ ফেডারেশনের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, রোনালদো এক থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন। সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও থাকছে। তবে তার আগে প্রমাণিত হতে হবে যে তিনি অন্যায়ভাবে ক্যাম্প ছেড়েছিলেন।
নরওয়ের বিপক্ষে হাফটাইমের পর মাঠে নামার প্রত্যাশা করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু পুরোটা সময় তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। তারপর ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না জেনে ম্যাচের একদিন আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান পর্তুগাল অধিনায়ক। দলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে রোনালদো নিজেই নিজের শাস্তি চেয়েছেন।
মূলত কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে কোপেনহেগেনের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ওই ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ এক বিবৃতি দেন তিনি। সেখানে কোচের বিরুদ্ধে দুইবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা বলেন।
এছাড়া হুট করে ক্যাম্প ছাড়ার জন্য পর্তুগিজ ভক্ত-সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। তবে তাতে অবসরের কোনোও আভাস দেননি। বরং আরও কিছু দিন খেলতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে ফেডারেশনের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবিও তোলেন। তিনি বলেন, ‘একটি বা আরও কিছু বিদায়ী ম্যাচ। আমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি, গোলও করতে থাকি, তাহলে আমাকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষে আমি আমাদের জাতীয় দলের জন্য লড়াই করার ও জেতার জন্য তৈরি থাকব। বিশ্বাস করুন, এটাই নিখাদ সত্য।’