আবারও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিকোল পাশিনিয়ানকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভাহাগন খাচাতুরিয়ান।
জুন মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে পাশিনিয়ানের সিভিল কনট্র্যাক্ট পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এ নিয়োগ দেওয়া হলো। এর আগে প্রথমবার ২০১৮ সালের ৮ মে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
রবিবার প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ডিক্রিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আর্মেনিয়ার সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাশিনিয়ানকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জুন মাসের নির্বাচনে সিভিল কনট্র্যাক্ট পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় পাশিনিয়ানের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকার পথ সুগম হয়।
আর্মেনিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, আর্মেনিয়ার নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সরকার পদত্যাগ করেছে। রবিবার রাজধানী ইয়েরেভানে পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসার পর প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন।
পাশিনিয়ান বলেন, সংবিধানের ১৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনের দিনই সরকার পদত্যাগ করে। তবে সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ি সরকার অন্তর্বর্তীকালীন (কেয়ারটেকার) সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে নতুন জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। আর্মেনিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম দেশটির প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আর্মেনিয়ান অ্যাপোস্টলিক চার্চের প্রধান কারেকিন-দ্বিতীয়কে অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী আইনপ্রণেতারা সমালোচনা করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্মেনিয়ান অ্যাপোস্টলিক চার্চ সরকারবিরোধী অন্যতম কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যাথলিকোস কারেকিন দ্বিতীয় দেশের নিরাপত্তা ও আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পাশিনিয়ান সরকারের সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ানও চার্চের জ্যেষ্ঠ নেতাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, সিনহুয়া, জর্জিয়া টুডে