ভারতের নয়াদিল্লিতে আগামী ২৬–২৭ অক্টোবর ব্রিকস সংসদীয় ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ কথা জানিয়ে শনিবার তার সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। তবে সংসদীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আলোচনায় সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান।
২৪ অক্টোবর দেওয়া বিবৃতিতে নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির প্রধান গালিবাফ ভারতীয় রাজধানীতে যাবেন না। সিদ্ধান্তটির সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে দূতাবাস বিস্তারিত জানায়নি।
ইরানি দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, স্পিকারের অনুপস্থিতির অর্থ ফোরাম থেকে ইরানের সরে যাওয়া নয়। দেশটির প্রতিনিধিরা অন্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে সংসদীয় যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ব্রিকস সদস্যদের সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেবে তেহরান।
অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভারতের উদ্যোগের প্রশংসাও করেছে ইরানি দূতাবাস। আলোচনায় গঠনমূলক ফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। তবে গালিবাফের অনুপস্থিতিতে কে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।
আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুই দিনের এই ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি জানান, ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সংসদের সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা এবং প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। সফররত প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে তার মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য জনকেন্দ্রিক উন্নয়নে সংসদের ভূমিকা জোরদার করা। পরিবর্তিত রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনসভার করণীয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
আলোচ্যসূচিতে রয়েছে সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব আলোচনায় সংসদীয় পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।