আধুনিক ফুটবলে বেশ কিছু আলোচিত ঘটনার মধ্যে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে জিনেদিন জিদানের ঢুসো মারার ঘটনা আলোচনায় স্থান পাবে। জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুঁসো মেরেছিলেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার। ঘটনার দুই দশকের বেশি সময় পরে এই ফুটবলারের স্বীকারোক্তি কুখ্যাত ওই ঘটনায় তার কোনো অনুশোচনা নেই।
এমবাপ্পেদের দায়িত্বে নেওয়ার পর কোচ হিসেবে নিজের প্রথম হোম ম্যাচে তিনি আবারও ইতালির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সেই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জিদান হাসিমুখে বলেন, ২০০৬ সালে কী ঘটেছিল তা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো দৃশ্যগুলো সবসময়ই থেকে যাবে, কারণ সেগুলো বারবার দেখানো হয়।
শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগে যেখানে ফরাসি দলকে আতিথ্য দেবে ইতালি। সেই স্তাদ দ্য ফ্রান্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জিদান বলেন, সৌভাগ্যবশত আমি কেবল ওই একটি কাজই করিনি, আরও অনেক ভালো কাজও করেছি। তাই আমি ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়েই বেশি ভাবার চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন, আমার কোনো অনুশোচনা নেই কারণ এটি আমার ক্যারিয়ারেরই একটি অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, বার্লিনের সেই ফাইনালের রাতের পর তেরাজ্জির সঙ্গে তার আর কোনো কথা হয়নি। ২০০৬ সালে আমি জানতাম না, আমি কোচ হতে যাচ্ছি। আমি ভেবেছিলাম ওটাই ছিল শেষ, তাই সময়টা আমার জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। যা ঘটেছিল তার জন্য আমি গর্বিত নই। আমি একথা বারবার বলেছি, কিন্তু এটি আমার ক্যারিয়ারের অংশ। সবসময় তো আর দারুণ সব কাজ করা যায় না।
৫৪ বছর বয়সী জিনেদিন জিদান জুলাইয়ের শেষের দিকে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হন। যিনি বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুটি ম্যাচই ছিল প্রতিপক্ষের মাঠে। নেশনস লিগে ‘লে ব্লুজ’রা তুরস্ক ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
প্যারিসের উত্তরে অবস্থিত জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি তাই এই কোচের জন্য এক ধরণের ঘরে ফেরার মতো হবে। জিদান বলেন, এটি সত্যিই আবেগঘন একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৬ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে শেষবার তিনি স্তাদ দ্য ফ্রান্সে খেলেছিলেন। ফ্রান্স এবার অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়াই মাঠে নামছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে জয়সূচক গোল করার সময় হাঁটুতে চোট পাওয়ায় তিনি তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে গেছেন।