Jahirul Hasan
প্রকাশ : Jul 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না


বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না। জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না, বরদাশতও করবে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ছাত্রদল হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  

এসময় তিনি আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি জানেন। তিনি আলিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় আমি পুনরায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। 

তিনি বলেন, যারা এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ পরিবর্তিত বাংলাদেশেও এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। 

তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই সরকার এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে মামলা দায়ের করতেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। বহু চেষ্টা-তদবিরের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু যদি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতেই সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কীভাবে তৈরি হবে?

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তার রক্ষক। কিন্তু যদি তারা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের উদ্বেগ বাড়বে। আমরা ব্যর্থতার ব্যাখ্যা শুনতে চাই না; আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। সরকারকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে যে এই দেশ সকল নাগরিকের এবং আইন সবার জন্য সমান।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যদি সরকারের ভেতর থেকেই বলা হয় যে দুর্নীতি বেড়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি, তাহলে জনগণের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে-এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কীভাবে? জনগণ অজুহাত নয়, কার্যকর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আহত আলিফের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ছেলেটি কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি। বরং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, নিন্দনীয় এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কারও ওপর হামলা হবে না। এখন পুরো জাতি অপেক্ষা করছে সরকার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা আমির আব্দুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) নেতা ডা. হাসান আল বান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইউক্রেনের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্ব

1

মার্কিন বাহিনীকে বিনামূল্যে নরকে পাঠানোর হুঁশিয়ারি

2

বাবাকে দাফনের পর রাতভর বুথে ডিউটি, সকালে দিলেন এইচএসসি পরীক্

3

পাঁচ দিন ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা, রাজধানীতে তাপমাত্রা কমার সম্ভা

4

পোস্টারে ব্যক্তিগত ছবি, প্রভার ক্ষোভ, অতঃপর পরিবর্তন

5

এক ফরম্যাটে হলেও ভারত সিরিজ আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ

6

আত্মহত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার প্রিন্স মামুন

7

জ্বালানি তেল আমদানির দরপত্র জমার সময় ১০ দিন নির্ধারণ

8

বৃহস্পতিবার শুরু হজ-ওমরাহ মেলা, প্যাকেজ বুকিংয়ে ছাড়

9

ফের রাজপথে নামার হুমকি ককরোচ জনতা পার্টির

10

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নিজেদের শক্ত অবস্থানেই অনড় ইরান

11

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত

12

কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

13

মাদ্রিদ ক্লাবে প্রথম কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান

14

মোদির ক্ষমা প্রার্থনা ও অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গা

15

ভেদরগঞ্জ মহাসড়ক এখন মরণফাঁদ

16

জাপানের সঙ্গে মেট্রো-অবকাঠামো সহযোগিতা জোরদার

17

রাতের মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা

18

ব্রাজিলের পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য ২০২৮ অলিম্পিক গুরুত্বপূর্ণ

19

‘কাউকে নিয়ে মাথা না ঘামানো একটি ব্যক্তিগত পছন্দ’, তৃষার রহস্

20