ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে গত বুধবার অভিযোগ করে সৌদি আরব। এরপর এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়।
তবে কাউকে অভিযুক্ত করার আগে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকেই গতকাল বৃহস্পতিবার এক্সে এ নিয়ে লিখেছেন, “যে কোনো পবিত্র স্থানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, বিশেষ করে মক্কা, মদিনা এবং আল-আকসায় এবং সেখানকার দর্শনার্থী এবং প্রতিবেশীদের ওপর হুমকি নিন্দনীয় কাজ।”
“কিন্তু মক্কার দিকে যাওয়া ড্রোন প্রতিহত করার দাবিই কোনো পক্ষকে অভিযুক্ত করতে পারে না।”
“আমাদের ভুললে চলবে না এ অঞ্চল অনেক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে অসংখ্য মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে। যেন এ অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অপরাধ করেছে সেগুলো থেকে সাধারণ মানুষের নজর সরে যায়। এগুলোর মাধ্যমে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
সৌদি মক্কাকে যুদ্ধের ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করছে, অভিযোগ হুথি নেতার
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মক্কায় ড্রোন হামলা চেষ্টার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, সৌদি আরব মক্কাকে ‘যুদ্ধের ব্যানার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যেন অন্যান্য মুসলিম দেশ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইয়েমেনে হামলা চালায়।
আব্দুল মালিক আল-হুথি বলেন, অন্য দেশগুলোর আরও সমর্থন পাওয়ার জন্য সৌদি আরব মক্কা, কাবা এবং পবিত্র নগরীগুলোকে যুদ্ধের ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া তারা অন্যান্য দেশগুলোকে প্রলুব্ধ করছে যেন ইয়েমেনের নির্যাতিত জনগণের ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শতাধিক সেনা অবস্থান করছে। আর এসব মার্কিন সেনারাই হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সৌদির বেশিরভাগ বিমান হামলায় সমন্বয় ও সহযোগিতা করছে।