Jahirul Hasan
প্রকাশ : Sep 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তিন সন্তান হত্যার দায় স্বীকার, ট্রাম্পও বলেছিলেন ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’, তবুও রায় হলো না যে কারণে

তিন সন্তান হত্যার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচিত সেই মামলায় শেষ পর্যন্ত কোনো রায় দিতে পারেননি জুরিরা। ছয় সপ্তাহের বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রায় ৪০ ঘণ্টা আলোচনার পরও ১২ সদস্যের জুরি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় শুক্রবার মামলাটিতে মিসট্রায়াল ঘোষণা করেছেন বিচারক উইলিয়াম সুলিভান।

ম্যাসাচুসেটসের এই বহুল আলোচিত মামলার আসামি লিন্ডসে ক্ল্যান্সি নিজের তিন সন্তানকে হত্যার কথা অস্বীকার করেননি। তবে তিনটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। তার আইনজীবীদের যুক্তি, সন্তানদের হত্যার সময় ক্ল্যান্সি প্রসবোত্তর সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে ওই সময় নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর তার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

মামলাটি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্পও। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি এবং মামলাটির আবার বিচার হতে পারে বলেও ধারণা দেন।

সন্তান হত্যার ঘটনা

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটসে নিজেদের বাড়িতে ক্ল্যান্সি তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। নিহতরা হলো ৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় বলা হয়েছে, সন্তানদের গলায় ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে হত্যার পর ক্ল্যান্সি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন ক্ল্যান্সি।

বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী সাবেক নার্স ক্ল্যান্সি একটি রাষ্ট্রীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হেফাজতে রয়েছেন।

জুরিদের আলোচনায় অচলাবস্থা

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা বিচার শেষে রায় নিয়ে সাত দিন আলোচনা করেন ১২ সদস্যের জুরি। প্রায় ৪০ ঘণ্টার আলোচনা শেষে একজন জুরি ক্ল্যান্সিকে খালাস দেওয়ার বিষয়ে একমত না হওয়ায় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি প্যানেলটি।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ফৌজদারি মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে জুরিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারলে তাকে হাং জুরি বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করতে পারেন।

ফলে ক্ল্যান্সি খালাসও পাননি, আবার দোষীও সাব্যস্ত হননি।

রায় নিয়ে জুরিদের আলোচনার শেষ পর্যায়ে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন অভিযোগ করেন, একজন জুরি যুক্তিসংগত সন্দেহ নিয়ে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না। ওই জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও করেন তিনি।

তবে বিচারক সুলিভান সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর জুরিদের আবার আলোচনায় পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা বিচারকের কাছে ফিরে জানান, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এর পরই মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন বিচারক। জুরিদের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলা আবারও আদালতে যেতে পারে

মিসট্রায়াল ঘোষণার অর্থ মামলাটি শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ বহাল রয়েছে। এখন প্রসিকিউশন চাইলে একই অভিযোগে নতুন করে বিচার শুরু করতে পারে। আবার চাইলে মামলাটি সমঝোতার মাধ্যমেও নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে পারে।

রেডিংটন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিলের চেষ্টা করেন। মামলার রায় স্থগিত রাখার আবেদন নিয়ে তিনি ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে আদালত তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

পরে ক্ল্যান্সির আইনজীবী জানান, মিসট্রায়াল পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি আবার আবেদন করবেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে আলোচনা হতে পারে।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। সেদিন প্রসিকিউশনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যেতে পারে।

প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজ জানিয়েছেন, নতুন করে বিচার করা হবে কি না, তা নিয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, তাদের বিশ্বাস, সন্তানদের হত্যার সময় ক্ল্যান্সি নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এবং এ বিষয়ে মামলায় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের বাইরে রেডিংটন দাবি করেন, একজন জুরির আপত্তি না থাকলে বাকি ১১ জন ক্ল্যান্সির পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে জুরিদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা গোপনীয় হওয়ায় এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনায় ক্ল্যান্সির মামলা

ক্ল্যান্সির মামলাটি শুধু আদালতকেন্দ্রিক থাকেনি। প্রসবোত্তর সাইকোসিস এবং সন্তান হত্যার ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিচারের কার্যক্রম অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রতিদিন ২০০-র বেশি সাংবাদিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ক্ল্যান্সির সমর্থকেরাও বিভিন্ন সময়ে আদালতের বাইরে জড়ো হন।

মিসট্রায়ালের পর ক্ল্যান্সির ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান এখন নির্ভর করছে প্রসিকিউশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসতে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, দ্যা হিল

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে, পুরোহিতও যমজ

1

পর্তুগালে ডিজেলের দামে রেকর্ড, স্পেনে ভিড়

2

রাশিয়া থেকে আরও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

3

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

4

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি : পররাষ্ট্র প্রতি

5

মিরপুরের মতো মোহাম্মদপুরের ফুটপাতে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে অভি

6

কাসেমিরোকে দলে নিয়ে বিপাকে মিয়ামি

7

স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী

8

রাশিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মিনিবাসের ছয় যাত্রী নিহত

9

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার :

10

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চায় না হুথিরা, বললেন ট্রাম্প

11

জয়ের পর ফুল নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর বাসায় মির্জা ফয়সল, খাওয়াল

12

ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম আবারও চালু করল ইসি

13

২০ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ানকে পেতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেবে

14

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

15

সেনা পাহারায় আল-আকসায় ইসরায়েলিদের ঢল

16

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন

17

শেষ বিশ্বকাপে নতুন লক্ষ্য কী, জানালেন কোহলি

18

বেরোবিতে প্রো-ভিসি, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের বাসভবনসহ গেস্ট

19

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যা

20