Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপে সেনা মোতায়নে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যেপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বা সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণে ন্যাটো মিত্ররা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাদের তাগিদ দিয়েছেন।

জুলাইয়ে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত ছয় মাসব্যাপী পর্যালোচনা শুরুর পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে। ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে আলোচনার জন্য সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি বলেন, আমরা এখানে এসেছি মূলত আলোচনা ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মনোভাব নিয়ে। আমরা আমাদের মিত্রদের মতামত জানতে চাই।

সামরিক বাজেট ব্যাপকভাবে বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে নিজেদের মহাদেশের সুরক্ষার মূল দায়িত্ব গ্রহণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা জানতে চেয়ে ওয়াশিংটন তাদের কাছে একটি প্রশ্নাবলী পাঠিয়েছে।
কোলবি বলেন, আমরা আসলে কাজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করছি, কীভাবে আমরা সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাব। এমন এক বিশ্বে যেখানে ইউরোপ তার নিজস্ব প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে এবং তা করছেও।

তিনি জানান, ওয়াশিংটন চলমান প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে ও ত্বরান্বিত করতে এবং সেই সঙ্গে ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত অবস্থানকে উচ্চপর্যায় থেকে পর্যালোচনা করতে জোর দিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জুন মাসে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এই সেনা পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কোলবি বলেন, আসুন আমরা ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ, ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশসীমা ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো দেখি; এসব ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও কিছু বিষয় রয়েছে যা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ নির্ধারণ করা যায়।

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের মিত্ররা এক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন করছে। এই প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাব।

চীন কেন্দ্রিক অন্যান্য চ্যালেঞ্জের ওপর মনোযোগ দিতে ওয়াশিংটন যখন ইউরোপ থেকে নিজেদের কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন থেকেই ট্রাম্প ইউরোপের ওপর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর জন্য দীর্ঘকাল ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার সেনা মোতায়েন রাখা পেন্টাগন ইতোমধ্যেই মিত্রদের জানিয়েছে, তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে আনছে।

মে মাসে ওয়াশিংটন জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, তিনি সমসংখ্যক সেনাকে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে পাঠাচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সামরিক বাজেট ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত খাতে ব্যয়ের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াব

1

ইরানে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না: কুশনার

2

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমায় হ্রাস পেয়েছে তে

3

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি অফ

4

সৌদিতে হুথিদের হামলার নিন্দায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ

5

দেশ-বিদেশ থেকে আসা নেপালের ত্রাণ তহবিল ছাড়াল ১১ বিলিয়ন রুপি

6

ব্যালন ডি’অরের আগে ইয়ামালকে হারিয়ে একটি পুরস্কার জিতলেন কেইন

7

আবারও ইতালির কোচ হলেন মানচিনি

8

সৌদি জাহাজে হামলার পর ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

9

শিক্ষাকে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে রূপান্তরই সরকারের মূল লক্ষ্য:

10

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩৭

11

বেরোবির ১৮তম ব্যাচের নবীনদের বরণে শিবিরের বিশেষ আয়োজন

12

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৫.৯ মাত্রার আফটারশক

13

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে :

14

কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু

15

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সাক্ষা

16

সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইলেও একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়া

17

সংসদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন যেসব নির্দ

18

ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, শিগগিরই কিছু হবে

19

সিরাজগঞ্জে ‘পল্লী হাটবাজারের’ প্রথম আউটলেট উদ্বোধন, জেলায় ১০

20