ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি যুজবেন্দ্র চাহাল। এক সময় ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের নিয়মিত সদস্যও ছিলেন। মাঠে সর্বদা হাসিখুশি থাকা এই ক্রিকেটার ব্যক্তিগত জীবনে লড়েছেন কঠিন সময়ের সঙ্গে। বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানের মাত্র বেড়ে গিয়েছিল, দেখা দিয়েছিল প্যানিক অ্যাটাকও। পরিস্থিতি সামলে নিতে ২৬ দিন রিহ্যাবে ছিলেন এই লেগ স্পিনার।
সম্প্রতি সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন চাহাল।
আইপিএলে ১৮৮ ম্যাচে ২৩৩ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান চাহালের। ভারতের হয়ে ৭২টি ওয়ানডেতে ১২১ এবং ৮০টি টি-টোয়েন্টিতে ৯৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
পডকাস্টে চাহালের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে প্রশ্ন করেন আকাশ চোপড়া। জবাবে চাহাল জানান, তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ে পাশে ছিলেন। মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর। বিষয়টা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই আমি একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হই এবং সেখানে ২৬ দিন থাকি।’
এই সিদ্ধান্ত তার জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান চাহাল। তিনি বলেন, ‘এখন আমি জানি কীভাবে পরিস্থিতি সামলে নিতে হয়। ওই সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। আমার পরিপক্বতা বেড়েছে, আবেগ এখন ভারসাম্যপূর্ণ। গত আইপিএলে আমার শরীরকে আবার ৩০ বছর বয়সের মতো মনে হচ্ছিল। নিয়মিত জিম, ফিল্ডিং অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ করতে পেরেছি।’
মদ্যপানের অভ্যাস কীভাবে বাড়ল, সেই ব্যাখ্যায় চাহাল বলেন, ‘শুরুতে আমি তরুণ ছিলাম। পার্টি হতো। ২০১১ সালে প্রথম আইপিএল খেলি। একবার এবি ডি ভিলিয়ার্স আমাকে বলেছিল, “জীবনে ভারসাম্যই মূল বিষয়।” কথাটা শুনতে সহজ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদের পর বিষয়টা অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়। আমার মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। বুঝতে পারি, এভাবে চলতে থাকলে যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি (ক্রিকেট) সেটাই নষ্ট করে ফেলব। তাই থামার সিদ্ধান্ত নিই। এখন আমি অনেক বেশি সুখী এবং ভালো অবস্থায় আছি।’