প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং
নেটিজেনদের ‘স্বৈরশাসক’ তকমা নিয়ে মুখ খুললেন এমবাপে

সর্বশেষ বিশ্বকাপের মাঝে কিলিয়ান এমবাপের এমন কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ফরাসি তারকাকে স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়। সামরিক পোশাক ও মাথায় ক্যাপ পরে কখনও সিংহাসনে বসে আছেন, কখনও-বা হেঁটে যাচ্ছেন। এমবাপের সেই সামরিক ‘ডিক্টেটর’-এর মতো রূপ ছড়িয়ে অবশ্য নেটিজেনরা অনেকদিন ধরে কৌতুক করছেন। যা নিয়ে এবার মুখ খুললেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
‘ফ্রান্স ম্যাগাজিন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোচিত কিছু বিষয়ে কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি অধিনায়ক। যেখানে তাকে সামরিক পোশাক পরিহিত সোভিয়েত শাসক জোসেফ স্টালিনসহ আরও স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। জবাবে স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনাটা অস্বস্তির বলে জানিয়েছেন এমবাপে।
২৭ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘বিষয়টির একটি দিক বেশ মজার, কারণ বোঝা যায় যে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি নিছকই কৌতুকপূর্ণ মনোভাব থেকে করা। আবার এর আরেকটি দিক আছে যা খুব কোনোভাবেই মজার কিছু নয়। কারণ ইতিহাসের পাতায় এ ধরনের মানুষরা যে ক্ষতিসাধন করেছে, তা আমরা জানি। যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’
এমন তুলনা মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয় বলেও মনে করেন এমবাপে। তার মতে, স্বৈরাচার এমবাপের মিমটি কখনও কখনও মজার হলেও এর মধ্যে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার ঘাটতিও প্রকাশ পায়। এমবাপের জাতীয় দল সতীর্থ উসমান দেম্বেলেও সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে নেওয়া ‘মোবুতু’ বলে ডাকেন। তবে তা নিয়ে আপত্তি নেই তার। এমবাপের মতে, সামাজিক মাধ্যমে পেয়ে দেম্বেলে এমন মজা করেছেন।
ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ‘ডিক্টেটর’ রূপে হাজির করার পেছনে অবশ্য কিছু প্রেক্ষাপট আছে। পিএসজিতে খেলার সময় এমবাপের কর্তৃত্বশীল মনোভাব এর অন্যতম কারণ। সেখানে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের মতো তারকাদের থেকে নিজেকে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সবদিক থেকেই এগিয়ে রাখতে চাওয়ার বিষয়টি তো ‘ওপেন সিক্রেট’। এ ছাড়া ২০২৪ সালের একটি ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে, ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় এমবাপের নাম ব্যবহার করেন। যার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
ওই সময় ফরাসি তারকার আইনজীবীরা নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। ফুটবলের বাইরের কারও সঙ্গে এমন আগ্রাসী মনোভাব পোষণের বিষয়টি তখন সামাজিক মাধ্যমেও হাস্যরসের জন্ম দেয়। এ ছাড়াও পারফরম্যান্সের সুবাদে অনেক সময় বেশি আলোচিত থাকাকে কেন্দ্র করেও নেটিজেনদের কাছে স্বৈরশাসকের সঙ্গে তুলনা চলে এমবাপের!
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।