প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 11, 2026 ইং
ভোটের প্রক্রিয়া ও জুলাই সনদ ইস্যুতে একমত সরকারি ও বিরোধী দল

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২০ তারিখের এই নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী জোট মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ভোটে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মাননীয় সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, রাষ্ট্রপতির ভোটদান এবং পরে সময়ে ভোট গণনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থীর নাম প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন এবং অন্যদিকে, ১১ দলীয় বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনার আইনি অবকাঠামো ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, যেহেতু বিদ্যমান সংবিধানের কোনো সংশোধন আনা হয়নি, তাই নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে এবং সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যালটে প্রার্থীর নামের পাশে ভোটার সদস্যকে তার নিজের নাম ও আসন নম্বর লিখতে হবে, যা পরোক্ষভাবে প্রকাশ্য ভোটেরই রূপ দেয়।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মণি স্পষ্ট করে বলেন, স্বাধীন দেশে নতুন করে সংবিধান লেখার বা পৃথক কোনো সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। ভারত ও আমেরিকার উদাহরণ টেনে তিনি ব্যাখ্যা করেন, যুগের প্রয়োজনে সংবিধান বহুবার সংশোধন হলেও মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি আশ্বাস দেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর ও দাড়ি-কমাসহ তা আগামী সংসদ অধিবেশনেই নতুন বিল উত্থাপনের মাধ্যমে হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদের মূল চেতনা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের চর্চাকে দৃশ্যমান করবে। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার কিংবা গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণের সুযোগ থাকলে নির্বাচিত পদের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেত বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে গোপন ব্যালট চালুর সুযোগ থাকলেও বর্তমান নির্বাচনে তা করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও, দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বিরোধী দল রাজপথে ও সংসদে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।